ইসরায়েলে রাজনৈতিক ভূমিকম্প: নতুন সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরবর্তী পদক্ষেপ

ইসরায়েলে রাজনৈতিক ভূমিকম্প: নতুন সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরবর্তী পদক্ষেপ

সম্ভাব্য নির্বাচনী পরাজয়ের পর ইসরায়েলে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতার পালাবদল মধ্যপ্রাচ্যের আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম জটিল এক কাঠামোগত পরিবর্তনের সূচনা করবে। একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষকের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই ধরনের নির্বাচনের তাৎক্ষণিক ফলাফল কেবল নির্বাহী ক্ষমতার হস্তান্তর নয়, বরং এটি ইসরায়েলের সংসদীয় ব্যবস্থার জন্য একটি গভীর পরীক্ষাও বটে। নতুন নেতৃত্ব এমন একটি দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করবে যা সামাজিকভাবে গভীরভাবে বিভক্ত, বহুমুখী নিরাপত্তা সংকটে জর্জরিত, আন্তর্জাতিক মিত্রদের সাথে টানাপোড়েনে লিপ্ত এবং অর্থনৈতিকভাবে স্থবির। এই বহুমুখী ও জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য নতুন সরকারকে অসাধারণ মাত্রায় রাজনৈতিক বাস্তববাদের পরিচয় দিতে হবে। নেতানিয়াহু-পরবর্তী সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত সুচারুভাবে সাজাতে হবে, যার প্রথম লক্ষ্য হবে জোট গঠনের মাধ্যমে রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা, দ্বিতীয় লক্ষ্য হবে অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং চূড়ান্ত লক্ষ্য হবে পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতির পুনর্গঠন।

যেকোনো নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার হলো ইসরায়েলি সংসদ বা নেসেটের (Knesset) সমীকরণ মেলানো। ইসরায়েল দেশব্যাপী আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, যা স্বভাবতই একটি অত্যন্ত খণ্ডিত সংসদ তৈরি করে। কোনো একক দল কখনোই ১২০ আসনের সংসদে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলস্বরূপ, বিজয়ী বিরোধী জোটকে একটি কার্যকর সরকার গঠনের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে একটি জোট তৈরি করার কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। নেতানিয়াহু-পরবর্তী এই জোটটি সম্ভবত মধ্যপন্থী, বামপন্থী এবং ডানপন্থী দলগুলোর একটি বৈচিত্র্যময় মিশ্রণ হবে, যাদের একমাত্র ঐক্যের জায়গা হলো প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাদের বিরোধিতা। একটি টেকসই সরকার গঠন করতে হলে নতুন নেতৃত্বকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টন করতে হবে, যাতে এই ভিন্নমতাবলম্বী অংশীদারদের আদর্শিক এবং বাস্তবমুখী দাবিগুলো মেটানো সম্ভব হয়।

যদি নেতানিয়াহু-বিরোধী জোট ইহুদি দলগুলো নিয়ে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের নজিরবিহীন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের দিকে হাঁটতে হবে। একটি কার্যকর কিন্তু অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প হলো আরব ইসরায়েলি রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে থেকে দেওয়া সমর্থনের ভিত্তিতে একটি সংখ্যালঘু সরকার গঠন করা। এই ব্যবস্থাটিকে প্রায়শই একটি সংসদীয় “সেফটি নেট” বা রক্ষাকবচ হিসেবে অভিহিত করা হয়। এর অর্থ হলো, ইউনাইটেড আরব লিস্ট (United Arab List) বা জয়েন্ট লিস্টের (Joint List) মতো দলগুলো মন্ত্রিসভায় না থাকলেও অনাস্থা প্রস্তাবে সরকারের পতন রোধ করতে ভোট দেবে। এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমর্থনের বিনিময়ে, নতুন প্রধানমন্ত্রীকে আরব ইসরায়েলি খাতের জন্য উল্লেখযোগ্য অভ্যন্তরীণ ছাড় দিতে হবে। এই ছাড়গুলোর মধ্যে থাকতে পারে আরব পৌরসভাগুলোতে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিপুল বাজেট বরাদ্দ, বিতর্কিত বাড়ি ভাঙার নীতি স্থগিত করা এবং আরব শহরগুলোতে মহামারী আকার ধারণ করা সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে বিশাল পুলিশি বাহিনীর মোতায়েন। যদিও এই কৌশলটি ক্ষমতায় যাওয়ার একটি পথ তৈরি করে, তবে এটি স্বভাবতই অস্থিতিশীল, কারণ ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি সংঘাতের যেকোনো উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি সাধারণত ইহুদি এবং আরব রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যকার সহযোগিতাকে ভেঙে দেয়।

বিকল্প হিসেবে, নতুন নেতৃত্ব আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরতা এড়াতে একটি বিস্তৃত জাতীয় ঐক্যের সরকার (National Unity Government) গঠনের চেষ্টা করতে পারে। এর জন্য নেতানিয়াহুর লিকুদ (Likud) পার্টির সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে, যদি লিকুদ তাদের দীর্ঘদিনের নেতাকে বাদ দিয়ে এগিয়ে যেতে ইচ্ছুক থাকে। একটি ঐক্যের সরকার গঠন করতে হলে নেতানিয়াহুর শেষ দিককার জোটগুলোর বৈশিষ্ট্যযুক্ত চরম ডানপন্থী দলগুলোকে, যেমন ওতজমা ইয়েহুদিত (Otzma Yehudit) এবং রিলিজিয়াস জায়োনিজমকে (Religious Zionism) বাদ দিতে হবে। সরকারকে আদর্শিক কেন্দ্রবিন্দুতে স্থাপন করার মাধ্যমে, নতুন প্রধানমন্ত্রী ইসরায়েলি জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে স্থিতিশীলতা এবং উদারপন্থার একটি চিত্র তুলে ধরতে পারবেন। তবে, জাতীয় ঐক্যের সরকারগুলো ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিক পক্ষাঘাতের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে, কারণ বাম এবং ডানপন্থীদের একে অপরের সিদ্ধান্তে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতার কারণে মূল আদর্শিক বিষয়গুলোতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রায়ই বাধাগ্রস্ত হয়।

একবার জোট সরকার শপথ গ্রহণের পর, তাদের তাৎক্ষণিক মনোযোগ অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার দিকে সরাতে হবে। বছরের পর বছর ধরে অনুষ্ঠিত একাধিক নির্বাচন, চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের গভীর মানসিক আঘাত এবং বিচারব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে তীব্র বিতর্ক—সব মিলিয়ে ইসরায়েলি ভোটাররা চরমভাবে মেরুকরণের শিকার হয়েছেন। নতুন সরকারকে ক্ষমতায় এসেই বিশাল কোনো আদর্শিক পরিবর্তন বাস্তবায়নের প্রলোভন এড়িয়ে চলতে হবে এবং এর পরিবর্তে ঐক্যমত্য গঠন ও রাষ্ট্রের কার্যকারিতার ওপর জোর দিতে হবে। তাদের সবচেয়ে জরুরি আইনগত বাধা হবে একটি ব্যাপক রাষ্ট্রীয় বাজেট পাস করা। ইসরায়েলে, একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাজেট পাস করতে ব্যর্থ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেসেট ভেঙে যায় এবং আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বামপন্থীদের সমাজকল্যাণমূলক দাবি, মধ্যপন্থীদের মুক্ত-বাজার অর্থনীতি এবং জোটে যোগ দেওয়া ডানপন্থী বা ধর্মীয় দলগুলোর নির্দিষ্ট খাতভিত্তিক চাহিদাগুলো পূরণ করে এমন একটি বাজেট তৈরি করার জন্য অসাধারণ রাজনৈতিক আলোচনার দক্ষতার প্রয়োজন হবে।

একটি উল্লেখযোগ্য অভ্যন্তরীণ সংকট যা নতুন সরকার কোনোভাবেই উপেক্ষা করতে পারবে না তা হলো অতি-রক্ষণশীল বা হারেদি (Haredi) সম্প্রদায়ের বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক। গত এক দশকে এই ইস্যুটি একাধিক জোট সরকারের পতন ঘটিয়েছে। ইসরায়েলি সুপ্রিম কোর্ট বারবার হারেদি ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া পাইকারি সামরিক ছাড় বাতিল করেছে এবং জাতীয় দায়িত্বের আরও সুষম বণ্টনের দাবি জানিয়েছে। একটি মধ্যপন্থী বা ধর্মনিরপেক্ষ সরকার তাদের ভোটারদের কাছ থেকে হারেদিদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ কার্যকর করতে বা যারা নিয়োগ এড়িয়ে যাবে তাদের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার জন্য প্রচণ্ড চাপের মধ্যে থাকবে। তবে, এই ফ্রন্টে খুব বেশি আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিলে তা মধ্যপন্থী ধর্মীয় দলগুলোকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে, যাদের সমর্থন সরকারের টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষণের দৃষ্টিকোণ থেকে সর্বোত্তম পদ্ধতি হতে পারে একটি পর্যায়ক্রমিক একীভূতকরণ পরিকল্পনা গ্রহণ করা, যেখানে ধীরে ধীরে নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের পাশাপাশি জাতীয় বেসামরিক সেবার বিকল্পগুলো সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে অতি-রক্ষণশীল নেতৃত্বের সাথে সম্পূর্ণ সম্পর্কচ্ছেদ এড়ানো যায়।

একই সাথে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপর্যয় নতুন প্রশাসনকে মোকাবিলা করতে হবে। ইসরায়েলের অর্থনীতি, যা মূলত তার হাই-টেক খাতের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ হ্রাস, ক্রেডিট রেটিংয়ের অবনতি এবং সামরিক রিজার্ভে বিশাল সংখ্যক বেসামরিক কর্মীবাহিনীকে তলব করার কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের কাছে সরকারকে দ্রুত আর্থিক দায়বদ্ধতা এবং শৃঙ্খলার প্রমাণ দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধ-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা তৈরি করা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস করা এবং আইনি পরিবেশ স্থিতিশীল ও অনুমানযোগ্য তা প্রমাণ করা, যা মূলত পূর্ববর্তী প্রশাসনের প্রস্তাবিত বিতর্কিত বিচারব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের অধ্যায়টিকে কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেবে।

অভ্যন্তরীণ অঙ্গনের বাইরে, নতুন সরকারকে পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিবেশ গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অস্থিতিশীল। যদিও নেতৃত্বের পরিবর্তন কূটনৈতিক সম্পর্কগুলো নতুন করে সাজানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ দেয়, তবে অন্তর্নিহিত নিরাপত্তার বাধ্যবাধকতাগুলো মূলত অপরিবর্তিত থাকে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইসরায়েলের নীতি ও সুরের মধ্যে একটি লক্ষণীয় পরিবর্তনের প্রত্যাশা করবে। নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অবিলম্বে কূটনৈতিক পুনর্বাসনের একটি প্রচারণায় নামতে হবে, ওয়াশিংটনে দ্বিদলীয় সমর্থন পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করতে হবে এবং দ্য হেগের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (যেমন ICC) উত্থাপিত গুরুতর আইনি ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে।

এই আন্তর্জাতিক প্রত্যাশাগুলো পূরণের জন্য, নতুন সরকারকে সম্ভবত পশ্চিম তীরে (West Bank) তাদের কার্যকলাপে নমনীয়তা ও সংযম প্রদর্শন করতে হবে। এর মধ্যে থাকতে পারে উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা, বিচ্ছিন্ন আউটপোস্টগুলোর সম্প্রসারণ বন্ধ করা এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি করা। এই ধরনের পদক্ষেপগুলো ইসরায়েলের মিত্রদের সামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থন অব্যাহত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আবরণ বা যুক্তি সরবরাহ করবে। উপরন্তু, একটি নতুন নেতৃত্বের গাজায় শত্রুতা বন্ধ করতে বা জিম্মি মুক্তির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করার ক্ষেত্রে অনেক বেশি নমনীয়তা থাকতে পারে, যা পূর্ববর্তী প্রশাসনের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতাগুলোর কারণে ব্যাহত হয়েছিল।

তবে, একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে এ কথা মনে রাখা জরুরি যে, ইসরায়েলের সামগ্রিক নিরাপত্তা নীতিতে রাতারাতি কোনো বৈপ্লবিক বা আমূল পরিবর্তনের আশা করা অবাস্তব। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর দ্বারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ইসরায়েলি সাধারণ জনগণ হামাস, হিজবুল্লাহ এবং ইরানের মতো প্রতিপক্ষগুলোর বিরুদ্ধে অপ্রতিরোধ্য সামরিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে গভীরভাবে একমত। প্রধানমন্ত্রী যে রাজনৈতিক দলেরই হোন না কেন, তাকে আঞ্চলিক হুমকির কঠোর বাস্তবতার দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। ব্যাপক ভৌগোলিক ছাড় বা চূড়ান্ত-পর্যায়ের শান্তি আলোচনা অবিলম্বে পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা স্বল্পমেয়াদে খুবই কম। এর পরিবর্তে সরকারের কৌশল হতে পারে সংঘাত ব্যবস্থাপনা, সামরিক প্রতিরোধ পুনরুদ্ধার এবং আঞ্চলিক মিত্রতা জোরদার করা; সম্ভবত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের (Abraham Accords) গতিশীলতা পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে এবং একটি নতুন বাস্তববাদী আঞ্চলিক কাঠামোর অধীনে সৌদি আরবের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দিকে অগ্রসর হওয়া।

পরিশেষে, নেতানিয়াহু-পরবর্তী একটি সরকারের টিকে থাকা নির্ভর করবে ইসরায়েলের রাজনৈতিক আখ্যানকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার ক্ষমতার ওপর। বছরের পর বছর ধরে, দেশটির রাজনৈতিক আলোচনা প্রায় সম্পূর্ণভাবে এক ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব এবং আইনি ঝামেলাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। একজন নতুন প্রধানমন্ত্রীকে জাতীয় আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পুনরুদ্ধার, বাস্তববাদী শাসন এবং সমষ্টিগত নিরাময়ের দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। নেসেটের ভঙ্গুর সমীকরণটি সাবধানে পরিচালনা করে, জরুরি অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনগুলো মোকাবিলা করে এবং একটি বাস্তবসম্মত কিন্তু দৃঢ় পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করার মাধ্যমে, পরবর্তী নেতৃত্ব রাষ্ট্রটিকে তার বর্তমান সংকট থেকে বের করে আনার চেষ্টা করতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় ভুল করার কোনো সুযোগ থাকবে না, তবে জাতিকে স্থিতিশীল করার এবং এর আন্তর্জাতিক অবস্থান পুনরুদ্ধার করার সুযোগটি হবে নতুন রাজনৈতিক যুগের সবচেয়ে সংজ্ঞায়িত চ্যালেঞ্জ।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *